২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোয় (ইপিজেড) বিনিয়োগ কমলেও রফতানি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বিনিয়োগ কমেছে ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তবে এ ছয় মাসে রফতানির পরিমাণ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি ছিল।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে বেপজা কমপ্লেক্সে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান।
তিনি জানান, ২০২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত বেপজায় বিনিয়োগ হয়েছিল ১৬২ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪ সালের একই সময়ে এসে দাঁড়িয়েছে ১২৬ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলারে। বিপরীতে বেড়েছে রফতানির পরিমাণ। ২০২৩ সালের শেষ ছয় মাসে ইপিজেড শিল্প-কারখানা থেকে রফতানি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৭১ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের শেষ ছয় মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১২৬ মিলিয়ন ডলারে।
বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত ছয় মাসে বেপজায় বিনিয়োগ কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ইপিজেডের বাইরে বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৭১ শতাংশ। এর পেছনে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও ডলার সংকটসহ বৈশ্বিক কিছু কারণ রয়েছে। তবে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এরই মধ্যে যোগাযোগ করছেন।’
গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বাইরের শিল্পাঞ্চলগুলো শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন কারণে বন্ধ থাকলেও ইপিজেডের ভেতরে কোনো সমস্যা হয়নি। বহিরাগত কিছু সমস্যার কারণে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি ইপিজেড দুই-একদিন করে বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়নি।’
বৈঠকে বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. আশরাফুল কবীর জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ১ হাজার ৪৬৮ দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বেপজায় বিনিয়োগ হয়েছে ৪২৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার, যা মোট এফডিআইয়ের ২৯ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) মো. ইমতিয়াজ হোসেন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক প্রমুখ।